আপনার হাঁটু অত্যন্ত জটিল এবং অবিশ্বাস্য রকম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। আপনাকে সোজা করে ধরে রাখা এবং আপনাকে সারা বিশ্বে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি, আপনার হাঁটু হাঁটা, দৌড়ানো, লাফ দেওয়া বা আপনার যোগ অনুশীলনে ভঙ্গি থেকে ভঙ্গিতে চলার মতো বিষয়গুলোতে সহায়তা করে। 


আপনার হাঁটুর যত্ন নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি এই গুরুত্বপূর্ণ জয়েন্টগুলিতে ব্যথা অনুভব করেন তবে আপনার হাঁটুর চারপাশের পেশীগুলিকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ। 


হাঁটু ব্যথার সাথে যোগব্যায়াম অনুশীলন করার সময় আপনার কী মনে রাখা উচিত?


প্রথমত, মনে রাখবেন: প্রত্যেকের শরীর আলাদা। আপনার হাঁটু ব্যথার পরিমাণের উপর নির্ভর করে, এই ভঙ্গিগুলি আপনার জন্য উপকারী হতে পারে বা নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে ব্যক্তিগত প্রশিক্ষক বা থেরাপিস্টের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। 


যারা অনলাইনে অনুশীলন করতে পছন্দ করেন, তারা হাঁটুর ব্যথার সাথে অনুশীলন করার সময় - বা যে কোনও ব্যথা, সেই বিষয়ে - আপনার শরীরের কথা শোনা এবং শুধুমাত্র আপনার জন্য যা ভালো মনে হয় তা করা গুরুত্বপূর্ণ।


ব্যথা অতি তীব্র হলে প্রথমে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। তারপর ব্যথা সহনীয় হলে তখন উপযোগী ব্যায়ামগুলো করুন।


ব্যথা নিরাময়ে পেইন কিলার খাবেন না। এটা আপনার কিডনি, লিভারসহ গুরুত্বপূর্ণ অর্গান নষ্ট করে ফেলবে। ব্যথার ওষুধ খাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি সম্পর্কে জানুন আগে।  


চিকিৎসা


ওয়ার্মআপের জন্য স্পট জগিং করুন। তারপর খালি হাতে ব্যায়াম থেকে নং ৭, নং ৮, নং ৯, নং, ৬, নং ৩, নং ৪, নং ২ এবং নং ৫ অনুশীলন করুন।

তারপর ২/৩ মিনিট শবাসন করুন। 

তারপর ত্রিকোণাসন, ধনুরাসন, পূর্ণ মৎস্যেন্দ্রাসন, উৎকটাসন এবং দণ্ডায়মান জানুশিরাসন অভ্যাস করুন। 


সবশেষে ৫ মিনিট শবাসন করে দৈনন্দিন ব্যায়াম শেষ করুন। 


অন্যান্য উপকারিতা


মেরুদণ্ডে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় মেরুদণ্ড সরল অথচ নমনীয় হয়। বাঁকা মেরুদণ্ড সোজা হয়।


কটির বাত ও বেদনা সেরে যায়।


কোষ্ঠকাঠিন্য দুর হয়, যকৃতের কাজ ভাল হয়, পেটের ও কোমরের চর্বি কমায়, মেরুদণ্ড নমনীয় করে, বুকের বেষ্টনী ও পাঁজরের হাড় বাড়াতে সাহায্য করে।


যারা কুজো তারা উপকার পাবেন। মেরুদণ্ড সোজা হওয়ার দরুন স্বাভাবিক অবস্থাপ্রাপ্ত হয়।


এডরেনাল গ্রন্থিকে অধিক কর্মক্ষম করে।


কটিবাত, পৃষ্ঠবাত, কোষ্ঠবদ্ধতা ও অজীর্ণ নিরাময় হয়। এটি উচ্চতা বৃদ্ধিরও সহায়ক।


স্পনডিলাইটিস রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।


জানুর সংযোগস্থলের স্নায়ু ও পেশী সবল হওয়ায় হাঁটুতে বাত হতে পারে না। কটিবাত থাকলে সেরে যায় এবং পায়ের গোদ সারাতে সাহায্য করে।


হাঁটুর সন্ধিস্থলের উপরের পেশী ও মেরুদণ্ড অধিকতর নমনীয় হয়। ফলে হাঁটুতে ও কোমরে বাত হতে পারে না।


মেরুদণ্ডের, হাত ও পায়ের পেশীগুলো নমনীয় হওয়ার দরুন কোমর থেকে দেহের ঊর্ধ্বাঙ্গ ও নিম্নাঙ্গের স্বাভাবিক সমতা বজায় রাখা সহজ হয়।


মাংসপেশির কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। 


শিরার মধ্যে ভালোভাবে রক্ত সঞ্চালিত হওয়ায় ক্লান্তি সহজে দুর হয়ে যায়।


উচ্চ রক্তচাপাক্রান্ত রোগীদের এই ব্যায়াম  বিশেষ প্রয়োজন।



সতর্কতা


যাদের হৃদরোগ আছে বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী যারা তাদের জন্য মাথা নিচু করে যেসব আসন করতে হয় সেগুলো করা নিষেধ।


সেক্ষেত্রে ব্যায়াম অভ্যাসকারীর জন্য (১ ) শীর্ষাসন, (২) শশাংগাসন, (৩) পদহস্তাসন, (৪) হলাসন,(৫) উড্ডীয়ান, (৬) ময়ূরাসন, (৭) বিপরীতকরণী মুদ্রা ও (৮) মৎস্যাসন অভ্যাস করা সম্পূর্ণ নিষেধ।


উপসংহার

 

এ যুগে মানুষের রোগের শেষ নাই। তাই নিজ নিজ সমস্যা অনুযায়ী ৫/৬টি খালি হাতে ব্যায়াম অভ্যাস করুন। 

 

তারপর প্রয়োজন মতো ৫/৬টি আসন নির্বাচন করুন। সেই অনুযায়ী অভ্যাস করুন। 

 

এরপর সমস্যা অনুযায়ী মুদ্রাও অভ্যাস করতে পারেন। কিছু রোগে এটি প্রয়োজনীয়।

  

সবশেষে প্রয়োজন হলে প্রাণায়াম নির্বাচন করে অভ্যাস করুন।  

 

সর্বোপরি, অসুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নেবেন। সুস্থদের যোগব্যায়ামের নিয়মকানুনও  জেনে রাখুন। 

 

এছাড়া কেন যোগব্যায়াম করবেন সেটি দেখে নিন। দ্রুত ফল পাবেন। 

 

যোগব্যায়ামকারীর খাদ্য সম্পর্কে জানুন এবং যোগব্যায়ামকারীদের অবশ্যই যে বিষয়গুলো জানা দরকার সেগুলো ভালো করে পড়ে নিন।